নোয়াখালীর সুন্দলপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার
নোয়াখালীর শাহজাদপুরে সুন্দলপুর ক্ষেত্রে নতুন একটি গ্যাসস্তর পাওয়া গেছে। ছোট আকারের এ স্তরটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৪০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। এরআগে এর নিচের দুটি স্তর শুষ্ক পাওয়া যায়। এ কারণে বাপেক্সের হতাশ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এটিকে আশার আলো হিসেবে মনে করছেন। সম্প্রতি কারওয়ানবাজারে পেট্রোসেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোবাংলা আনুষ্ঠানিকভাবে এ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোম্পানিটি আশা করছে, সুন্দলপুর থেকে দৈনিক ১ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস উৎপাদন করা যাবে। আগামী মার্চ নাগাদ এ গ্যাস গ্রিডে দেয়া হবে। এরফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। সুন্দলপুর হচ্ছে দেশের ২৪তম গ্যাসক্ষেত্র। রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে এটি চতুর্থ। দেড় যুগ পর এ ক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হলো। বাপেক্স সর্বশেষ ১৯৯৩ সালে সালদা নদী ক্ষেত্রটি আবিষ্কার করে। অবশ্য ২০০৪ সালে জোট সরকারের সময় শ্রীকাইলে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে বাপেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশেষ বোনাস গ্রহণ করেন; কিন্তু পরে সেখানকার স্তর শুষ্ক হিসেবে প্রমাণ মিললে ওই বোনাস ফেরত নেয়া হয়।
সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রটির অবস্থান নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রামে। গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ২০০৭-০৮ সালে বাপেক্স কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় ১৯৭ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার লাইনে দ্বিমাত্রিক জরিপ (টু ডি সার্ভে) চালায়। এর মাধ্যমে শাহজাদপুর গ্রামে গ্যাসাধারের সন্ধান মেলে।
ওই জরিপের ভিত্তিতে ২০০৭ সালের অক্টোবরে মোট ৭৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সুন্দলপুর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০০৮ সালের জুলাইয়ে সুন্দলপুরে (শাহজাদপুরে) অনুসন্ধান কূপ খনন শুরুর কথা ছিল; কিন্তু রিগ সংকটসহ নানা জটিলতায় ওই অনুসন্ধান কূপ খননকাজ শুরু করতেই দু’বছর কেটে যায়।
শেষ পর্যন্ত গতবছর ৬ নভেম্বর ৩ হাজার ৩০০ মিটার গভীরতায় একটি কূপ খননের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে কাজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ডিসেম্বরে। ৩ হাজার ৩২৭ মিটার গভীর পর্যন্ত কূপ খননের পর ‘সিমেন্ট প্লাগ’ করার সময় ১৪ এপ্রিল পাইপ ও লগিং টুলস ভূগর্ভে আটকে যায়। দীর্ঘ চেষ্টার পর ১ জুলাই তা তোলা সম্ভব হয়।
এদিকে গ্যাসের উন্নয়ন কূপের অবস্থান চিহ্নিত করাসহ জোন নির্ধারণ করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি দিয়ে সুন্দলপুরে কূপের মুখে পরীক্ষামূলকভাবে আগুন ধরিয়ে (ফ্লো করে) ‘ডিএসটি’ (ড্রিলিং স্টিম টেস্ট) করা হয়। এতে ইতঃপূর্বে সম্ভাবনাময় হিসেবে বিবেচিত তিনটি স্তরের মধ্যে নিচের দুটিই শুষ্ক পাওয়া যায়। এতে ক্ষেত্রটির ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। শেষ পর্যন্ত কূপের ওপরের জোনে আগুন লাগিয়ে পরীক্ষা করা হলে গ্যাস উঠে আসে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর বলেন, দুটি স্তর শুষ্ক হওয়া সত্ত্বেও বাকি স্তরটি থেকে গ্যাস উৎপাদন লাভজনক হবে। অনুসন্ধান কূপটিকে উন্নয়ন কূপে রূপান্তর করে সেখান থেকে গ্যাস উৎপাদন করা হবে। চট্টগ্রামের সংকটের কথা বিবেচনায় রেখে একই সঙ্গে প্রসেস প্লান্ট নির্মাণ এবং পাইপলাইন স্থাপনের কাজও করা হবে। আগামী বছরের মার্চ নাগাদ এসব কাজ শেষ করে সুন্দলপুরের গ্যাস গ্রিডে দেয়া সম্ভব হবে। কয়েক কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করলেই সুন্দলপুরের গ্যাস গ্রিডে দেয়া যাবে। তিনি জানান, অনুসন্ধান কূপটির স্থান (লোকেশন) সঠিক না হওয়ায় নিচের স্তর সম্পর্কে সঠিক তথ্য নাও পাওয়া যেতে পারে। এজন্য সঠিক লোকেশনে আরেকটি কূপ খনন করা হতে পারে। এছাড়া ক্ষেত্রটির প্রকৃত মজুদ জানতে ওপরের স্তরের গ্যাস উৎপাদনের পাশাপাশি পরে ওই এলাকায় থ্রি ডি সার্ভে করা হবে।
সুন্দলপুরে তিনটি স্তরের মধ্যে দুটিই শুষ্ক। একমাত্র স্তরটিও ওপরের দিকে হওয়ায় সুন্দলপুরে কাক্সিক্ষত পরিমাণ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোপূর্বে বাপেক্স সেখানকার তিনটি স্তরে ৬০০ বিসিএফ গ্যাস পাওয়ার আশা করেছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সেখানে ৫০ বিসিএফের কম গ্যাস থাকতে পারে। তবে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানায়নি। আগামী সপ্তাহে এ ব্যাপারে পরিষ্কার করে বলা সম্ভব হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জানান, আগে ওপরের স্তর থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হবে। মজুদ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত তথ্য পেতে পরে আধুনিক ভূকম্পন জরিপ (থ্রি ডি সার্ভে) চালানো হবে। এর মাধ্যমে বেশি মজুদের খবর মিলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মজুদ বাড়লে সুন্দলপুরে আরও একটি কূপ খনন করে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সেখানে ২০ বিসিএফ গ্যাস পেলেও তা উৎপাদন করা লাভজনক বলে বিবেচিত হবে। কারণ চট্টগ্রামের সংকট মোকাবেলায় যে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তাতে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম পড়বে ১০ থেকে ১২ ডলার।
আগামী বছরের মধ্যে আরও দুটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের আশা করছে বাপেক্স। সুন্দলপুরের পর বাপেক্স কুমিল্লার শ্রীকাইল ও গাজীপুরের কাপাসিয়াকেও সম্ভাবনাময় হিসেবে মনে করছে। এছাড়া নতুন গ্যাসের খোঁজে বাপেক্স মোকারকপুর, সুনেত্র, রূপগঞ্জ, মদন ও বাজিতপুরে পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধান কূপ খনন করবে। ২০১৫ সাল নাগাদ বাপেক্স ১০টি উন্নয়ন এবং আটটি অনুসন্ধান কূপ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক চিশতি বলেন, গত ২১ বছরে বাপেক্স মাত্র তিনটি গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে। সুন্দলপুরে নতুন গ্যাসস্তর পাওয়ায় বাপেক্স আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
সংস্থার চেয়ারম্যান আনুষ্ঠানিকভাবে এ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ঘোষণা দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবকেও খবরটি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের গ্যাস অনুসন্ধান কাজের সফলতাস্বরূপ একটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলো।
বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, চাপ দেখে ধারণা করা হচ্ছে সুন্দলপুর থেকে দৈনিক ১ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস উৎপাদন করা সম্ভব হবে। গ্যাসক্ষেত্র থেকে নোয়াখালীর মাইজদী পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। ফলে সুন্দলপুর ক্ষেত্রের উত্তোলিত গ্যাস স্থানীয় গ্রাহকরা ব্যবহার করবেন। এ গ্যাসে চট্টগ্রামের ঘাটতিও কমবে। তিনি জানান, সুন্দলপুরের গ্যাসস্তরটির অবস্থান ভূপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৩৯৯ থেকে ৪০৫ মিটার গভীরে। প্রায় ৫ মিটার পুরু এ গ্যাসস্তরটির বিস্তৃতি অনেক।
সুন্দলপুরে প্রতিদিন উত্তোলন হবে ১০-১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেছেন, বিগত সরকারের সময় দেশের কোথাও গ্যাসকূপ খননের চেষ্টাও করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার এরই মধ্যে চারটি কূপ খননের কাজ হাতে নিয়েছে। তিনি আশা করছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আরো তিনটি স্থান থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে। এসব গ্যাস ব্যবহার করে আগামী বছর নাগাদ বিদ্যুৎ সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে। সম্প্রতি নোয়াখালীর সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান কূপ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। তিনি পরে খাগড়াছড়ির সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রও পরিদর্শন করেন।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে দৈনিক ১০ থেকে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। আগামী ১৬ থেকে ১৮ বছর এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলিত গ্যাস আমাদের দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে পরিদর্শন-পরবর্তী সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ এনামুল হক, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, বিদ্যুৎ সচিব আবুল কালাম আজাদ, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসেন মনসুর, বাপেক্স ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহাম্মেদ, গ্যাসক্ষেত্রের প্রকল্প পরিচালক আবদুল হালিম, বসুরহাট পৌরসভা চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মির্জা, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি খিজির হায়াত ও স্থানীয় সিরাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নূর নবী।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস প্রাকৃতিক সম্পদ। তাই এই প্রাকৃতিক সম্পদকে সঠিকভাবে ব্যবহার করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হবে। গত বছরের ২১ ডিসেম্বর আমি এই কূপ খনন উদ্বোধন করেছি। এখানে উত্তোলন করার মতো গ্যাস পাওয়া গেছে দেখে নিজেকে ধন্য মনে করছি। গ্যাস উত্তোলনে এলাকাবাসীকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।
তবে গ্যাসক্ষেত্রটির নাম পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। তারা এই গ্যাসক্ষেত্রের নাম সুন্দলপুরের পরিবর্তে শাহজাদপুর গ্যাসক্ষেত্র করার দাবি জানিয়েছে। কারণ জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কবিরপুর ইউনিয়নের সুন্দলপুর গ্রামে ২০০৪ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য বাপেক্স কাজ শুরু করলেও এ বছর উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহজাদপুর গ্রামে। সুন্দলপুর ও শাহজাদপুরের মধ্যে ব্যবধান ১২ কিলোমিটার এবং গ্রাম দুটি পৃথক ইউনিয়নের অন্তর্গত। এলাকাবাসীর দাবিকে যৌক্তিক মেনে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে ফিরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
২০০৪ সালে পিএসপি ব্লক ১০-এর দ্বিমাত্রিক সিসমিক জরিপের মাধ্যমে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জের শাহজাদপুর গ্রামে ভূ-গঠনটির অস্তিত্ব জানা নিরূপিত হয়। পরে ২০০৭-০৮ সালে বাপেক্স নিজস্ব জরিপ পরিচালনা করে ওই ভূ-গঠনটির আবিষ্কার নিশ্চিত করে। পরবর্তী সময়ে সুন্দলপুর তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্প হিসেবে ২০০৮ সালের ২২ মে একনেকের অনুমোদন লাভের পর এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্প পরিচালক আবদুল হালিম জানান, সরকার ৭৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এ প্রকল্পের জন্য ব্যয় বরাদ্দ করে। নানা প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে এ বছর ১১ মার্চ থেকে তিন হাজার ৩২৭ মিটার গভীরতায় কূপটির খননকাজ সম্পন্ন হয়। এভাবে ভূগর্ভের গভীরে দুটি কূপ খনন করা হলেও সাফল্যজনকভাবে গ্যাস উত্তোলনের মতো মজুদ পাওয়া যায়নি। তবে ভূগর্ভের ১৩৯৯ থেকে ১৪০৪.৫ মিটার গভীরে খনন করা কূপটি থেকে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের আশানুরূপ মজুদ আবিষ্কৃত হয়।
বাপেক্স চেয়ারম্যান মর্তুজা আহাম্মেদ বলেন, অনুসন্ধান কূপটিতে ১২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৫০০ থেকে ৭০০ বিসিএফ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্পটি সফলভাবে সমাপ্ত হলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।